Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More

Saturday

রেড ব্রিক বিল্ডিং

ওই তো চিরচেনা জায়গা। যেখানে সুয্যিমামার দাঁত কেলানো হাসির নিচে আমরা দৈনিক সমাবেশে সমাবেত হতাম। ওয়াহাব স্যারের তীব্র কণ্ঠের "বাম-ডান" যেন এখনো কানে বাজে। রাস্তা পার হলে "সাবধান" হই। ফুটপাতে আরামে চলি। প্রথম-প্রথম উঁচু দালানটা খুব আশ্চর্য লাগত। সিড়ি গুনে উপরে উঠব ভাবতাম। দেখতে চাইতাম কি আছে উপরের তলায়। সেন্টু মামা বেল্ট ধরে সোজা টিচার্স রুমে নিবে বলে উঠতাম না। কৃতকার্য হয়ে শুধু ক্লাসই না ফ্লোরও বদলানো হল। এভাবে উঠতে উঠতে হঠাৎই একদম নিচ তলায়! এটা কোনো কথা হল!! নাহ, খারাপ লাগে নি... ভালই সময় যাচ্ছিল। বলা যায় সেরা সময়গুলোই কেটেছে। ছোটবেলায় (যখন কোন ক্লাসে পড়তাম তা জানতে একহাতের আঙুলগুলোই যথেষ্ট) টিচারদের আচরণ মাঝে মাঝে আতঙ্ক তৈরি করত। হরতাল কিংবা কোনো ছুটি ঘোষণা আসলে বাধভাঙা আনন্দ আসত। সম্ভবত শেষে উপলব্ধি করলাম ছুটি কেন দেয়! 


এখানেই কোনো রাঙা প্রভাত অনেকের মনকে রাঙা করেছে, নতুন সম্পর্ক তৈরি করেছে। হয়তো কেউ মুখ ফুটে আবেগ বের করেছে। কেউ অন্তরে পোষন করেছে। কোনো শিক্ষক তাঁর ব্যক্তিত্ব ধরে রেখে বেশি কঠোর হয়েছেন, কেউ বা অতি স্নেহে রেখেছেন। তবে দু'জনাই মঙ্গল কামনা করেছেন। অনেক বন্ধুই মৌলিক কিছু বিশেষ গুনের অধিকারী ছিল। কেউ মাতিয়ে রাখত টিফিন টাইম, কেউ ক্লাস টেস্টের সেই ৪০ মিনিট। প্রস্তুতি ছাড়াই হয়তো কাঙ্খিত নম্বর পাওয়া যেত। এরপর সাময়িক পরীক্ষায় সাময়িকভাবে জোরালো প্রস্তুতি চলত। হলের বেঞ্চে বসে প্রস্তুতির চাইতে যেন মাথায় ঘুরত "কে" আসছেন!! "সেইরকম" কেউ আসলে সামনের কারো দিকে মুচকি হাসি দিতে হত। প্রশ্ন হাতে হয়তো ভাবতেও হত, "ইশ! আরেকটু যদি পড়তাম..."

হোমওয়ার্ক ছিল যন্ত্রণার শামিল। ওই খাতা প্রায় শুণ্যই থাকত। আর ক্লাসে যখন সেই মেধাবীজন শিক্ষকের নিকট অবগতি পেশ করতেন যে "হোমওয়ার্ক ছিল স্যার..." তখন মনে চিন্তার ঝড় বইত যে "এবার আমি গেছি" আর ভাবতাম যদি করতাম। শয়তান তখন তাঁর নিয়মিত কাজ চালনায় কাছে আসত আর বুঝাতো এটা-সেটা বলতে... কিন্তু শিক্ষক আমার অতিবুদ্ধিমান। ভুরুজোড়া আমার দেখেই বুঝতেন সব। তারপর...

ক্যাম্পাস
এই রেড ব্রিক বিল্ডিং-এ অনেক ক্ষেত্রেই ইশ/যদি/কিন্তু/কিংবা হয়ে কেটেছে। তবে আমি বলব সেইসব মুহূর্তে ছিলনা ওগুলো। টিফিন ভাগাভাগিতে ছিল না কোনো অনিচ্ছা, ছিল না সামনের জনের পিঠে আঘাত কিংবা কলম দিয়ে কিছু লেখায় দেরি হবার শঙ্কা। রসাত্মক বুলি যেন মেশিনগানের মতো ছুটত মুখ দিয়ে। ওদেরকে হাসিয়ে সেও হেসে দিত। সে এক অট্টহাসি। পিছের বেঞ্চে কাধ ছুঁইয়ে যাওয়া হাসি। অনাবিল আনন্দ। এখন স্বপ্নে হাতছানি দেয়।

রেড ব্রিক বিল্ডিং, তোমার অঙ্গের অনেক কিছুই আমরা নষ্ট করেছি... কিন্তু তুমি আজও শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছ। আমাদের দেখলে সৌজন্যমুলক হাসি দিয়ে স্বাগত জানাও। তুমি অনেক দিয়েছ আমাদের। আমরা পারিনি কিছুই। তুমি অপরূপ। নেই কোনো সন্দেহ। দীর্ঘকাল প্রাণবন্ত থাকো, রইল শুভকামনা।

---লিখেছে ব্যাচ '১৩ এর ছাত্র।

Monday

Wish of Principal

I am really happy for this brilliant SSC result of my institution. The Chairman of the school, VC of Dhaka University, congratulates all the learners, teachers, parents and guardians for this outstanding success of students. It is the best SSC result in the history of Udayan. I wish every success of my students in life. 


Best Regards, 
Muhammad Arifur Rahman 
Principal(Acting)

উদয়ন বিদ্যালয়: উদীয়মান প্রজন্মের ধারক



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জগন্নাথ হল পেরিয়ে চোখ আটকে যায় কীর্তিমান সব মনীষীর স্থির মূর্তিতে। তাঁদের মাঝ দিয়ে মাথা উঁচু ক

রে দাঁড়িয়ে আছেন বাংলার স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা শহীদগণ, আর সবার শীর্ষে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির হাতে বাংলাদেশের পতাকা। সেই পতাকার রক্তিম উদীয়মান সূর্যকে ধারণ করে নিয়েছে উদয়ন বিদ্যালয়। এই রক্তিম উদীয়মান সূর্য ইঙ্গিত দিচ্ছে সম্ভাবনাময় মেধাবী এক প্রজন্মের, যাদের উন্মেষ ঘটেছে উদয়ন বিদ্যালয় থেকে।

ফিরে দেখা:
উদয়ন বিদ্যালয়ের প্রকৃত নাম ছিল ঢাকা ইংলিশ প্রিপারেটরী স্কুল। ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পতœী মিসেস হেজ বার্ণওয়েল দুটি শেড নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন শিশুদের জন্য একটি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তখন এটি ঢাকার উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। পরবর্তী পর্যায়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এটিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হয় এবং স্বাধীনতার পর এটি পরিচিত হয় উদয়ন বিদ্যালয় নামে। ১৯৭৬ সালে এটি ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের অনুমোদন পায়। ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সকলের সহায়তায়, প্রখ্যাত স্থপতি সামসুল ওয়ারেসের নকশায় গড়ে ওঠে পাঁচতলা বিশিষ্ট নয়নাভিরাম নতুন ভবন।

উদ্দেশ্য:
প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য থাকে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটানো। শিক্ষার্থীদের শৈশব থেকেই শেখানো হয় সামাজিক মূল্যবোধের প্রায়োগিক দিক, শেখানো হয় সামাজিকতা।

ক্লাসের ফাঁকে:
উদয়ন বিদ্যালয়ে রয়েছে সুবিশাল এবং সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। এ লাইব্রেরিটির বৈশিষ্ট্য হল- এখানে কেজি থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য বই মজুদ আছে। পাঠ্যবই ছাড়াও আছে সাহিত্য নির্ভর প্রচুর বই। ক্লাসের ফাঁকে শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরি গিয়ে পড়াশুনা করতে পারে।

শিক্ষার্থীদের যুক্তিমনস্ক করে তুলতে উদয়ন বিদ্যালয়ের বিতর্ক ক্লাব সক্রিয়। শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে বিতর্ক চর্চা করে থাকে। সেই সাথে আন্তঃ ক্লাস বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। যেমন, জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা, শিশু একাডেমী বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উদয়ন বিদ্যালয় সাফল্য অর্জন করছে।

উদয়ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে নেই সংস্কৃতি চর্চাতেও। এখানে রয়েছে উদয়ন সাংস্কৃতিক সংসদ।

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে উদয়ন বিদ্যালয়ের নিজস্ব কোন খেলার মাঠ নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও উদয়ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে নেই খেলাধুলায়। বিদ্যালয়ে প্রতিবছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে। তাছাড়া প্রতি সপ্তাহে একটি করে "খেলা" ক্লাসে শিক্ষার্থীদের স্বল্প পরিসরে শরীরচর্চা ও কুচকাওয়াজ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে।

উদয়নের শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের ভাণ্ডার অফুরন্ত। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, জাতীয় গ্রন্থাগার, জয়নুল-কামরুল জাতীয় শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, মিতসুবিশি শিশু চিত্রাংকনসহ সম্মিলিত মেধা তালিকায় রয়েছে উদয়ন বিদ্যালয়ের স্ব-গর্ব উপস্থিতি। প্রতিবছর প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, জয়নুল বৃত্তি পরীক্ষা, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় উদয়ন বিদ্যালয় লাভ করে যাচ্ছে শতভাগ পাস এবং শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের গৌরব।

শিক্ষার্থীকে জ্ঞানে বড় করে শুধুমাত্র একজন সফল মানুষ করে তোলা নয়, তাকে একজন মহৎ মানুষ করে গড়ে তোলাও উদয়ন বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য। উদয়ন বিদ্যালয় চায় তার প্রাঙ্গনে গড়ে উঠুক একঝাঁক মেধাবী, মননশীল, মহৎ ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম; যে প্রজন্ম শুধু উদয়ন বিদ্যালয়কেই গর্বিত করবে না; গর্বিত করবে দেশকেও।

news source :

  • BDNEWS24.COM
  • Welcome to this site

    Welcome! this site is under construction. very soon contents will be added.. be with us...

     
    Design by Xafyr | Bloggerized by Xafyr